নন্দিত অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদের ৬৯তম জন্মদিন আজ। তিনি ১৯৫৩ সালের ১৫ই জুলাই ঢাকার পুরানা পল্টনে জন্মগ্রহণ করেন। চলচ্চিত্রে অভিনয় করে এখন পর্যন্ত তিনি ছয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন।এই অভিনেতা এখনও নিয়মিত অভিনয় করে চলেছেন। তবে নাটকের ব্যস্ততাই বেশি।
পদ্মা নদীর মাঝি (১৯৯৩), অন্য জীবন (১৯৯৫), দুখাই (১৯৯৭), ও লালসালু (২০০১) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য চারবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ২০০৬ সালে ‘ঘানি’ ও ২০১৩ সালে ‘মৃত্তিকা মায়া’ সিনেমার জন্য পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়েছেন তিনি। এছাড়া ৪৫তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা লাভ করেন। আর ২০২১ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করে।
১৯৭১ সালে দেশমাতৃকার স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে যখন ডাক পড়লো, তখন মুক্তিকামী বীরসেনানীদের সঙ্গে রাইসুল ইসলাম আসাদও যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে। ১৯৭২ সালে বেতার, মঞ্চে ও টেলিভিশনে রাইসুল ইসলাম আসাদের অভিনয়ে যাত্রা হয়। চলচ্চিত্রে তিনি নাম লেখান ১৯৭৩ সালে। খান আতাউর রহমানের ‘আবার তোরা মানুষ হ’ নামের আলোচিত সিনেমাটি ছিল তার প্রথম চলচ্চিত্র।
এরপর ১৯৮০ সালে সালাহউদ্দিন জাকীর ‘ঘুড্ডি’, ১৯৮১ সালে সৈয়দ হাসান ইমামের ‘লাল সবুজের পালা’, ১৯৮৪ সালে কাজল আরেফিনের ‘সুরুজ মিঞা’-সহ এ পর্যন্ত অর্ধ শতাধিকের বেশি সিনেমায় অভিনয় করেন এই গুণী অভিনেতা।
রাইসুল ইসলাম আসাদ ১৯৭৯ সালের ৯ই নভেম্বর তাহিরা দিল আফরোজের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার একমাত্র কন্যার নাম রুবায়না জামান।
এই অভিনেতা এখনও নিয়মিত অভিনয় করে চলেছেন। সবশেষ ‘মিশন এক্সট্রিম’ সিনেমায় অভিনয় করতে দেখা যায় রাইসুল ইসলাম আসাদকে। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত দীপঙ্কর দীপন পরিচালিত ‘অপারেশন সুন্দরবন’। এছাড়া শ্যাম বেনেগাল পরিচালিত ‘বঙ্গবন্ধু’ বায়োপিকের মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি।